
নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিনিধি :
নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মুন্সীগঞ্জের জবা কর্মকার। ঢাকা বিভাগের সব জেলার প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে আবৃত্তিতে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন কণ্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি একাডেমির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী জবা।
তাঁর এ সাফল্যে মুন্সীগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জবার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াছমিন বেগম এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
জবা কর্মকার মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা গোপাল কর্মকার এবং মা গীতা কর্মকার। তিনি সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তিচর্চা, প্রশিক্ষণ ও উপস্থাপনায় যুক্ত রয়েছেন তিনি। টঙ্গিবাড়ীর আড়িয়ল এলাকার একটি বিদ্যালয়ে আবৃত্তি প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জবা।
এ ছাড়া জেলার অন্যতম অনলাইন গণমাধ্যম ‘আমার বিক্রমপুর’-এর জনপ্রিয় পডকাস্টে নিয়মিত উপস্থাপনা করেন তিনি।
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সাফল্যের পর বিভাগীয় পর্যায়েও প্রথম স্থান অর্জন জবার প্রতিভা, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কণ্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি একাডেমির পরিচালক ও তাঁর প্রশিক্ষক জিতু রায়ের তত্ত্বাবধানে আবৃত্তিচর্চা করে আসছেন তিনি। জবার এই অর্জনে আনন্দিত একাডেমির প্রশিক্ষক, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে জবা কর্মকার বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মুন্সীগঞ্জ জেলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম স্থান অধিকার করতে পেরেছি। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হরগঙ্গা কলেজের প্রতি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আমার আবৃত্তির প্রশিক্ষক কণ্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি একাডেমির পরিচালক জিতু রায়ের কাছে। আপনারা সবাই আমার জন্য প্রার্থনা করবেন, যেন জাতীয় পর্যায়ে মুন্সীগঞ্জের সুনাম ধরে রাখতে পারি।”
বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার পর এবার জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা করছেন জবা। তাঁর এই অর্জন মুন্সীগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জবার হাত ধরে জাতীয় পর্যায়েও মুন্সীগঞ্জের সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক—এমন প্রত্যাশা কণ্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি একাডেমি পরিবারের।