
নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে ফলজ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির দখল নিয়ে বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চরগলগলিয়া মৌজার সিএস ১৬৭৫, এসএ ১৬৭৫/৩৭৭১ এবং আরএস ৩৩৯৩ দাগের ৩৮ শতাংশ জমি আমমোক্তারনামা সূত্রে মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন বাঘাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম। ওই সম্পত্তি নিয়ে হাজী মো. ইসমাইল (কয়লাওয়ালা) ও মো. জিন্নত আলীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে কেরানীগঞ্জের সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং ৬৭/২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবং জমি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তরা গত ১৮ জুন বিকেল ৪টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমিতে থাকা তিনটি আমগাছ, চারটি কাঁঠালগাছ, প্রায় ৩০টি কলাগাছ এবং বিভিন্ন প্রজাতির কাঠগাছ কেটে ফেলা হয়। এতে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটায় বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাঁকে খুন-জখমের হুমকি দেন এবং জমি দখলের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে হাজী মো. ইসমাইলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো গাছ কাটিনি, জায়গা পরিষ্কার করেছি।”
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এএসআই সুজেল মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় জমিতে কাটা অবস্থায় তিনটি আমগাছ, চারটি কাঁঠালগাছ, প্রায় ৩০টি কলাগাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির কাঠগাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ভিডিওতেও ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মো. জিন্নত আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সরাসরি দেখা করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগকারীর দাবি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।