logo

শিরোনাম

মুন্সিগঞ্জে ৪ মাসের বিবাহিত তরুণী নিখোঁজ: স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের তথ্য, রহস্য ঘনীভূত

নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ | সময়ঃ ১২:০০
photo
নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সিগঞ্জ:
মুন্সিগঞ্জে রেদোয়ানা নামে চার মাসের বিবাহিত এক তরুণী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম এক মাস সংসার ভালো চললেও পরবর্তী প্রায় তিন মাস ধরে স্বামীর হাতে রেদোয়ানা বিভিন্ন সময় মারধরের শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

নিখোঁজ তরুণীর মা ফাতেমা বেগম (৪১) মুন্সিগঞ্জ থানায় জিডি নং-১০২৯, তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৬ মূলে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর থানাধীন রামপাল ইউনিয়নের জোয়াড়দেউল এলাকা থেকে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রেদোয়ানার প্রায় চার মাস আগে বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, তার স্বামী বিয়ের আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রেদোয়ানাকে বিয়ে করেন। ধর্ম পরিবর্তনের পর ছেলেটি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মেয়েটিকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি বা সরকারি সূত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি; এটি পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য।

বিয়ের পর প্রথম এক মাস স্বামীর সঙ্গে রেদোয়ানার সংসার ভালোভাবে চললেও পরবর্তী প্রায় তিন মাস ধরে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। পরিবারের দাবি, পাশের ভাড়াটিয়ারাও এসব ঘটনার কিছু বিষয় জানতেন। তবে স্বামীর ভয়ে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইতেন না বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনার দিন, ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে রেদোয়ানা তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে সকাল ১০টার দিকে তিনি বেতকা চৌরাস্তায় মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তার মা তাকে কিছু গরুর মাংস দেন। এরপর রেদোয়ানা হাতিমারা এলাকার কুয়েত ভিলার পাশে টিনশেড ভাড়া বাসায় ফিরে যান।

পরিবারের অভিযোগ, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রেদোয়ানার সঙ্গে তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে একটি মিশুকে করে রেদোয়ানাকে তার স্বামী নিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এরপর রেদোয়ানার সঙ্গে তার মা যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মেয়ে ফোন না ধরায় উদ্বিগ্ন হয়ে তার মা ভাড়া বাসায় গেলে দেখতে পান, ঘরে তালা ঝুলছে। পরে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, মেয়েকে দেওয়া গরুর মাংসটি ঘরেই রয়েছে।

এ সময় ঘরে একটি বাটন মোবাইল ফোন ভাঙা অবস্থায়, সিম কার্ড ভাঙা এবং একটি টাচ মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এসব বিষয় রেদোয়ানার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে বলে দাবি স্বজনদের।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি ও মারধরের অভিযোগের পর রেদোয়ানাকে মিশুকে করে নিয়ে যাওয়া, এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া এবং ভাড়া বাসায় ভাঙা মোবাইল ও সিম পড়ে থাকার বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় রেদোয়ানার মা ফাতেমা বেগম মুন্সিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার মেয়ের সন্ধান ও নিরাপদে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত তদন্ত করে রেদোয়ানাকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রেদোয়ানা বর্তমানে কোথায় আছেন, তাকে কারা নিয়ে গেছেন এবং তার নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং তরুণীর অবস্থান নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

নোট: ধর্ম পরিবর্তন, মারধর এবং তরুণীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো পরিবারের অভিযোগ ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্বামী বা তার পরিবারের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফল পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা যেতে পারে।

  • নিউজ ভিউ 585