
নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিন মুন্সিগঞ্জের অসংখ্য মানুষ পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিংয়ের পর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে আসেন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে।
এই অফিসের মাধ্যমেই বিদেশগামী কর্মীদের বিএমইটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
কিন্তু মুন্সিগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের বর্তমান অব্যবস্থাপনা ও জনবল থেকেও না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে অফিসটিতে গিয়ে দেখা যায়, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের প্রধান কর্মকর্তার চেয়ারটি খালি রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সহকারী পরিচালক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন কার্ত্তিক চন্দ্র দেবনাথ। তবে বেশিরভাগ সময় তার নারায়ণগঞ্জ অফিসে অফিস করতে হয়।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, জনবল সংকটের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অফিস সহায়ক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও নিজের মতো করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এছাড়া অফিস সহায়ক সামিউল ইসলাম শরীয়তপুরে কর্মরত, হিসাবরক্ষক বাবুল হোসেন ঢাকা হেড অফিসে কর্মরত অন্যান্য পদেও রয়েছে জনবল সংকট।
অন্যদিকে বিএমইটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনজন আউটসোর্সিং কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। অফিসে একজন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেলেও জানা গেছে, বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের সংকট রয়েছে।
। তবে সেবা নিতে আসা কয়েকজন বিদেশগামী মানুষের অভিযোগ, অফিসে নিয়মিত না থেকেও অফিস সহায়ক মনিরুজ্জামান বিভিন্ন সেবা নিতে আসা বিদেশগামী মানুষের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটির এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন মুন্সিগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক কার্ত্তিক চন্দ্র দেবনাথ বলেন
তারা মনে করছেন, দ্রুত জনবল সংকট দূর, নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক কার্ত্তিক চন্দ্র দেবনাথ বলেন
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন-এর কাছে বিদেশগামী সাধারণ মানুষের দাবি, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সেবার মান উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা— প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন যেন কোনো সরকারি অফিসের অব্যবস্থাপনায় বাধাগ্রস্ত না হয়।