শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক | news71.tv
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি : 
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ শরিফুজ্জামান সোহাগ (৪৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গ্রেপ্তার শরিফুজ্জামান সোহাগ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার সোনাপোতা এলাকার মোঃ আবুল কালাম সরকারের ছেলে।


তিনি ২০১৯ সাল থেকে শ্রীনগর বাজারের শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, শ্রীনগর শাখায় অফিসার-ক্যাশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার আদাবর এলাকায়।



পুলিশের অভিযোগ, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় শরিফুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১১ থেকে ১২ শতাংশ সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। এ সময় ব্যক্তিগত সিল ও ব্যাংকের ভাউচার ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


অভিযোগ ওঠার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গ্রাহকদের অর্থ ও ব্যাংকের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।


পুলিশ জানায়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন মধ্য পাইকপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে শরিফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসাটি তার বোন মোসাঃ জিনাত রেহানা ও তার স্বামী গোলাম আসাদের বলে জানা গেছে।


গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড এবং একটি ব্যাংকের লকারের চাবি উদ্ধার করা হয়।


পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি তার পরিচয় ও ঠিকানা প্রকাশ করেন। তবে আত্মসাৎ করা অর্থের মোট পরিমাণ এবং সেই অর্থের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।


এদিকে আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখা, ঢাকা থেকে তিন সদস্যের একটি অডিট টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযোগের ধরন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধের আওতাভুক্ত হওয়ায় দুদক কর্তৃপক্ষও বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গ্রেপ্তার শরিফুজ্জামানকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে আত্মসাতের অভিযোগের প্রকৃত পরিমাণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।