নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক নজরুল বর্ষ উপলক্ষে কন্ঠকুঁড়িতে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা
রাহিদ হোসেনঃ নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের কন্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা–২০২৬। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের পৌর মার্কেটে একাডেমির কার্যালয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩৮ জন আবৃত্তিকার অংশ নেয়।
শিশু-কিশোরদের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও সাহিত্যচেতনা ছড়িয়ে দেওয়া এবং আবৃত্তি প্রতিভার বিকাশের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক ও সহকারী শিক্ষক তামান্না সরকার মনি এবং নাট্যকার ও অভিনেতা পারভেজ হোসেন। কবিতার ভাব ও রস, শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, কণ্ঠের ওঠানামা ও প্রকাশভঙ্গির ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়।
চারটি বিভাগে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক-ক বিভাগে প্রথম মাহিরা ইসলাম, দ্বিতীয় বুনন চৌধুরী এবং যৌথভাবে তৃতীয় রুমাইছা জাহান ইফা ও ওয়াসিনাত আমিন। প্রাথমিক-খ বিভাগে যৌথভাবে প্রথম জুওয়াইরিয়া হোসাইন জারা ও আলফিয়া আরিফ আরফা রুহি, যৌথভাবে দ্বিতীয় আফিয়া আনজুমান তাহা ও জুনায়রা হাসান শাইরিন এবং তৃতীয় জারীফা হোসাইন ইরা। মাধ্যমিক-ক বিভাগে প্রথম আশহাদিয়া ফাতেমা। মাধ্যমিক-খ বিভাগে প্রথম সুমাইয়া ইসলাম মুন এবং দ্বিতীয় সোহানা ইসলাম মীম।
বিচারক তামান্না সরকার মনি বলেন, কন্ঠকুঁড়ির শিশু-কিশোরদের আবৃত্তির মান দেখে তিনি মুগ্ধ। ভাব-রস, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি ও প্রকাশভঙ্গিতে তারা প্রশংসনীয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এ প্রতিভাবানরা ভবিষ্যতে মুন্সীগঞ্জের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নাট্যকার ও অভিনেতা পারভেজ হোসেন বলেন, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি আয়োজনে দক্ষ শিল্পীর সংকট রয়েছে। নজরুলকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কন্ঠকুঁড়ির প্রশিক্ষণার্থীদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা জেলার সুনাম বয়ে আনতে পারবে।
কন্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জিতু রায় বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে একাডেমির পক্ষ থেকে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৩০ জন আবৃত্তিকারের অংশগ্রহণে নজরুলের ৩০টি কবিতা নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে, যা অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানেও একাডেমির শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার স্কুল পর্যায়ের প্রাথমিক বাছাইয়ে কন্ঠকুঁড়ির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে উপজেলা পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সারা বছরই নজরুলের সাহিত্য ও চেতনাকে ধারণ করে আবৃত্তিচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে একাডেমি।
একাডেমির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও রামপাল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আফরোজা আক্তার বলেন, কন্ঠকুঁড়িতে শিশু-কিশোরদের নির্দিষ্ট সিলেবাসের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবৃত্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সিলেবাসের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে নজরুলের কবিতা ও সাহিত্য।
তিনি বলেন, শিশুদের ‘বিদ্রোহী’সহ নজরুলের দীর্ঘ ও কঠিন কবিতা আবৃত্তির সক্ষমতা তাদের মেধা ও প্রশিক্ষণের প্রমাণ। একই সঙ্গে নজরুলের দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিকতা ও উদারতার চেতনা শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে গড়ে উঠছে। বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মোবাইলনির্ভরতা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের মধ্যে কবিতা ও আবৃত্তির মতো সৃজনশীল চর্চায় তাদের যুক্ত থাকা ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সকল আবৃত্তিকারকে অভিনন্দন জানানো হয়। আয়োজকরা জানান, শুদ্ধ উচ্চারণ, সুন্দর বাচনভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে একাডেমির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।