দলীয় পদবি ও প্যাড ব্যবহারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নিউজ ডেস্ক | news71.tv
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
দলীয় পদবি ও প্যাড ব্যবহারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া এক নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির দলীয় প্যাড ও পদবি ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে।  

এ ঘটনায় মাহবুব উল আলম স্বপন নামে ওই নেতার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় মামলা করেছেন মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান বকুল।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ৩০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে বিএনপির দলীয় প্যাড ব্যবহার এবং মাহবুব উল আলম স্বপন নিজেকে ‘শহর বিএনপির সদস্যসচিব’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী মোখলেছুর রহমান বকুল।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ কয়েকজনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের বিষয়টি গোপন রেখে স্বপন বিএনপির দলীয় পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক পরিচয় ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাহবুব উল আলম স্বপন ধানের শীষের বিপরীতে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। একপর্যায়ে তিনি দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণাও দেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোখলেছুর রহমান বকুলের দাবি, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও মাহবুব উল আলম স্বপন বিএনপির দলীয় পদবি ও প্যাড ব্যবহার করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এ ঘটনায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

এ বিষয়ে মাহবুব উল আলম স্বপন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি
অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দল থেকে আমাকে বহিষ্কারের যে কাগজটি ছড়ানো হয়েছিল, সেটি আমরা যাচাই করে দেখেছি ভুয়া। আমরা মৌখিকভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম, এটা সত্যি; কিন্তু কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র দেইনি। তাছাড়া দল থেকেও আমরা বহিষ্কারের কোনো কাগজ পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা দুঃখজনক। দীর্ঘ ১৭টি বছর লড়াই করেছি, দুর্দিনে বিএনপির হাল ধরেছি। আমি বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করবো।”

প্রসঙ্গত
২০২২ সাল থেকে মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির সদস্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব উল আলম স্বপন। ২০২৬ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নিজ দলের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্যসচিব (পরে বহিষ্কৃত) মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নেন এই নেতা। একপর্যায়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ আরও কয়েকজনকে বহিষ্কারের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই বহিষ্কারের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।