নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক আজ ভোরে সুদানের রাজধানী খার্তুম এবং উত্তরাঞ্চলের আরও দুটি শহরে ড্রোন হামলা হয়েছে। এএফপির একজন সংবাদদাতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর রাজধানীতে এটি সমন্বিত হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদান ভয়াবহ যুদ্ধে জর্জরিত। একদিকে দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সুদানি সেনাবাহিনী, অন্যদিকে তার সাবেক উপপ্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো-র নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে এই যুদ্ধ চলছে।
রাজধানী খার্তুম গত বছর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। এরপর প্রায় ২৩ লাখ মানুষ শহরটিতে ফিরে আসেন। এর আগে রাজধানী ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেও গত কয়েক মাস তুলনামূলক শান্ত ছিল।
খার্তুমে থাকা এএফপির সংবাদদাতা জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে রাজধানীর যমজ শহর ওমদুরমানের ঠিক উত্তরে সেনাবাহিনীর ওয়াদি সাইদনা ঘাঁটির দিক থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দও শোনা যায়।
সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চলের আতবারা ও এল-দামার শহরের প্রত্যক্ষদর্শীরাও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা এবং আকাশে ড্রোন দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সুদানজুড়ে ত্রাণকর্মীদের হিসাবে, চলমান এই যুদ্ধে ২ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।
একসময় মিত্র থাকা বুরহান ও দাগলো ক্ষমতার তীব্র দ্বন্দ্বে পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় দুই পক্ষই অনেকটা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। সিদ্ধান্তমূলক সামরিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা চালাতে গিয়ে তারা আলোচনায় বসতেও অনিচ্ছুক।
গত বছর আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ দারফুর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে। এরপর তারা দক্ষিণের কর্দোফান অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা চালায়।
অন্যদিকে সেনাবাহিনী দেশের মধ্য, উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। গত মাসে কর্দোফানে গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক থেকে আরএসএফকে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করে। ওই সড়কটি রাজধানীর সঙ্গে সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর পর দাগলো ঘোষণা করেন, তিনি তার যোদ্ধাদের ‘মুক্ত করে দেবেন’। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে আরএসএফ বারবার বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।