নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের স্ত্রীকে তালাক দেওয়া, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ এবং নিজের সন্তানদের বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফেজ মোখতার হোসেন মৃধা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পারিবারিক শান্তি ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে তিনি এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যা পুরো পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক সংকটের মধ্যে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের পর সম্প্রতি তিনি নিজের অসুস্থ স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান। এর আগে স্ত্রী ও সন্তানরা তাঁর কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর মানসিক চাপ ও নানা ধরনের হয়রানি শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, প্রবাসে থাকা বড় ছেলেকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া মেজ ছেলেকে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ত্যাজ্য ঘোষণার চেষ্টা এবং ছোট ছেলেকেও বিভিন্নভাবে হয়রানির মুখে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং আর্থিক সক্ষমতার কারণে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হচ্ছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি স্থানীয় সালিশ কিংবা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শও উপেক্ষা করছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করছেন।
এদিকে সম্প্রতি ঢাকার গেন্ডারিয়া এবং মুন্সিগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে একাধিক নারীকে নিয়ে অবস্থানের অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঢাকার একটি ফ্ল্যাটে পরনারীর সঙ্গে তাঁকে হাতেনাতে দেখতে পেয়ে স্বজনরা প্রতিবাদ করলে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
এছাড়া বিদেশে নাগরিকত্ব ও বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করার পরও দেশে এসে আইন ও সামাজিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করার অভিযোগও তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ মোখতার হোসেন মৃধার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় পোশাক বা বাহ্যিক পরিচয় কখনোই একজন মানুষের নৈতিকতার একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।
এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।