নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ইলিয়াছ মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। তবে আসামি গ্রেপ্তারের পরও ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলী এলাকায় সিরাজদিখান-শ্রীনগর সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে নিহতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি বিপ্লব এবং ৪ নম্বর আসামি রওশন আরা মেম্বারকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন অনেকেই। তাদের মতে, বর্তমানে তদন্তে সহযোগিতা করা এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মানববন্ধনের উদ্দেশ্য নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিমত, এ ধরনের কর্মসূচির ফলে পলাতক আসামিরা আরও সতর্ক হয়ে আত্মগোপনে যেতে পারে, যা তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। আবার অন্যদের মতে, সকল আসামির গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজন করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন সকালে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে মো. ইলিয়াছ মোল্লা (৫০)-কে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ২০ জুন রাতে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৪ নম্বর আসামি রওশন আরা মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সিরাজদিখান থানার একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে মামলার ১ নম্বর আসামি ও অভিযোগ অনুযায়ী প্রধান আসামি বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, “ইলিয়াছ মোল্লা হত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি বিপ্লব ও ৪ নম্বর আসামি রওশন আরা মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
মানববন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মানববন্ধন কেন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।”
বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।