নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক রাহিদ হোসেন: “মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬” উদযাপন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে আয়োজিত দুটি পৃথক আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় কণ্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি স্কুলের প্রশিক্ষণার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সব মিলিয়ে ১১টি পুরস্কার জিতে তারা তাদের প্রতিভা ও নিয়মিত অনুশীলনের স্বাক্ষর রেখেছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজিত আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় কণ্ঠকুঁড়ির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখে। দুটি বিভাগের মোট ছয়টি পুরস্কারের মধ্যে পাঁচটি অর্জন করে তারা। ক বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে ওয়াসিনাত আমিন রাফা, দ্বিতীয় স্থান জুনায়েরা হোসেন এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে সুয়াইবা হোসেন সারা। খ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে সুপর্ণা পোদ্দার সুপ্তি এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে অন্বেষা মিত্র।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬-এর প্রভাতী অনুষ্ঠানে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ও পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম ক বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী ওয়াসিনাত আমিন রাফা এবং খ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী সুপর্ণা পোদ্দার সুপ্তির হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। অন্যান্য বিজয়ীদের পুরস্কার জেলা শিশু একাডেমির কার্যালয় থেকে প্রদান করা হয়। এছাড়া জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, মুন্সীগঞ্জের আয়োজিত আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় কণ্ঠকুঁড়ির আরও পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে পুরস্কার অর্জন করে। ক গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে অন্বেষা মিত্র।
যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে আশহাদিয়া ফাতেমা ও মো. লামি জামান সাদ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে সুয়াইবা হোসেন সারা। খ গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে সুমাইয়া ইসলাম মুন। এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে কণ্ঠকুঁড়ি আবৃত্তি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ও সাংবাদিক জিতু রায় বলেন, “এই অর্জনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমাদের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের।
বাংলা সাহিত্য ও কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই সাফল্য এসেছে। মফস্বল শহরে আবৃত্তি চর্চা খুব বেশি অগ্রসর না হলেও আমরা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এটিকে একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অর্জন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ তৈরি করে। কণ্ঠকুঁড়ির এই অর্জন শুধু পুরস্কারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, পরিশ্রম, মেধা ও সংস্কৃতিচর্চার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।