নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভায় সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহীনের ছবি সম্বলিত একটি তোরণ নির্মাণ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা তোরণটি নির্মাণ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও শনিবার থেকে মিরকাদিম পৌরসভা সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানের সড়কে এটি দেখা যাচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শ্রমিক রিয়াজুল হত্যা এবং একই বছরের ৭ জানুয়ারি মিরকাদিমে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. জিল্লুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শহিদুল ইসলাম শাহীন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকায় পুলিশের তালিকায় তিনি বর্তমানে পলাতক আসামি হিসেবে রয়েছেন।
এদিকে, এমন অবস্থায় তার নামে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এটি তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি অন্য কেউ তার নামে তোরণ নির্মাণ করেছে—এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তার নামে এলাকায় বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তোরণ নির্মাণের ঘটনাও সামনে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মিরকাদিম ঈদগাহ ময়দানের সামনে, গোপালনগর এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় তোরণ নির্মাণ করে তার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব তোরণ এলাকায় দৃশ্যমান রয়েছে। ব্যানারে তাকে সাবেক পৌর মেয়র হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আওয়ামী লীগের কোনো পদবির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে মিরকাদিম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা শাহীনের লোকজনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের দাবি। তারা আরও বলেন, হত্যা মামলার আসামি হয়েও শাহীন পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন, যারই অংশ হিসেবে ঈদ শুভেচ্ছা তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যুবদলের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হত্যা মামলার আসামির নামে তোরণ নির্মাণ হলেও সিনিয়র নেতারা এ বিষয়ে কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না। আমরা আর কীভাবে প্রতিবাদ করবো?”
মিরকাদিম পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজান বলেন, “শহিদুল ইসলাম শাহীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেয়র থাকাকালে এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি নিজেও সেসব মামলার আসামি। একজন পলাতক আসামির পক্ষে এভাবে তোরণ নির্মাণ করা তার আধিপত্য বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, যাতে কোনো আসামি এভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
অন্যদিকে, এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, মিরকাদিমে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আগে শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু শাহীন দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভেদ তৈরি হয়। তারা দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জিল্লুর রহমানকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
তারা আরও বলেন, “৪ আগস্টের ঘটনার পর অনেক নিরীহ নেতাকর্মীর নাম মামলায় জড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এ ধরনের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আবারও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।”
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবির বলেন, “এজাহারভুক্ত আসামির নামে তোরণ নির্মাণের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”