নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
জাহাঙ্গীর আলম : মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়টি দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। এতদিনেও কার্যালয়টির কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।
তবে গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে এবং কার্যালয়টি আবারও সরব হয়ে ওঠে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির মূল কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তেমন ছিল না। সে সময় মুক্তারপুরে বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয় থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে সংস্কারে এগিয়ে আসেন ফ্রান্স প্রবাসী বিএনপি নেতা মো. বশির উল্লাহ। তিনি জানান, বিগত ১৮ বছরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে কোনো ধরনের সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে দেয়াল, ছাদ, দরজা ও জানালার রং উঠে গিয়ে এটি প্রায় জরাজীর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের পর থেকে নেতাকর্মীদের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আনাগোনা বাড়লেও কেউ সংস্কারের উদ্যোগ নেননি। তাই দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে আমি নিজের অর্থায়নে কার্যালয়টির সংস্কার ও রং করার কাজ করেছি। এখন কার্যালয়টি অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।”
এদিকে কার্যালয়টির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপিতে নেই আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সক্রিয় নেতৃত্ব। ফলে জেলা বিএনপি অনেকটাই নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিন আলী এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সদর থানা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন। তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
এরপর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন করে প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণাও দেন। এতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।
বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপিকে নতুনভাবে পুনর্গঠন বা সাংগঠনিক পরিকল্পনা করছে কি না—এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।