নিউজ সেভেন্টি ওয়ান ডট টিভি ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর–গজারিয়া) আসনে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে আর কোনো আইনগত বাধা রইল না।
এ খবরে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
শনিবার নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে মহিউদ্দিনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মহিউদ্দিনের প্রার্থিতা ফিরে আসায় এ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মো. মহিউদ্দিনসহ চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের সময় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি এবং একটি ঋণের জামিনদার হওয়া সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করা হলে শুনানি শেষে কমিশন তাঁর পক্ষে রায় দেন।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে রোববার বিকেল থেকেই মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
নেতা-কর্মীরা জানান, প্রায় ৩৬ বছরের বেশি সময় ধরে মহিউদ্দিন পরিবার মুন্সীগঞ্জে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুল হাই অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন মো. মহিউদ্দিন। সংকটময় সময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার কারণে তাঁর প্রতি ব্যাপক আস্থা রয়েছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে মো. মহিউদ্দিন বলেন,
“রাজনৈতিক সচেতনতা আসার পর থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। হামলা-মামলা, জেল-জুলুম কোনো কিছুই আমাকে দল থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
এ আসনের জনগণ ও নেতা-কর্মীদের ভালোবাসা ও প্রত্যাশা থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন না পেলেও জনগণ ও নেতা-কর্মীরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই মেনে নেব।”
মনোনয়ন ফিরে পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠে এখন নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।