logo

আজো মনে পরে হামার কুড়িগ্রামের বীর প্রতীক তারামন বিবিকে

০২ ডিসেম্বর, ২০২০   |   news71.tv

আজো মনে পরে হামার কুড়িগ্রামের বীর প্রতীক তারামন বিবিকে

মোঃ নুর আলম ইসলাম (রাঙ্গা), চিলমারী (কুড়িগ্রাম)  : সময়টা ১৯৭১ সাল, চারিদিকে চলছে পাক-বাহিনীর তাণ্ডব। প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে, যে যেদিকে পাড়ছে চলে যাচ্ছে। পাক-শত্রুদের মোকাবেলা করতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে ভাগ করা হলো ১১টি সেক্টরে। সেই ১১ নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের কীংবদন্তি হয়ে উঠলেন এক নারী তিনি হলেন বীরপ্রতিক তারামন বিবি।

 

স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, বীরপ্রতীক তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ শরীরে পায়খানা মেখে পাগলের অভিনয় করে পাক-বাহিনীর ক্যাম্পের সামনে থেকে তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের গতিবিধির উপর নজর রাখতেন। গোয়েন্দা গিরি পাশাপাশি তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করতেন আবার স্টেশনগান ও রাইফেল হাতেও যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন। তার গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে রাজীবপুরের কোদালকাটিসহ অনেক স্থানে পাকবাহিনীদের পরাস্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
 

দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে ভূষিত করে বীর প্রতীক খেতাবে। দেশ স্বাধীন হবার পর শুরুতে এই অকুতোভয় নারীকে কেউ চিনত না। দীর্ঘ ২৪ বছর অভাব অনটনের মধ্যে কাটত কীংবদন্তি এই নারীর জীবন। সবাই ভুলে গিয়ে পর করে গেলেও এই নারীকে পর করেননি তার স্বামী আব্দুল মজিদ। স্বামী আব্দুল মজিদ সাধ্যমত স্ত্রীর পাশে থাকতেন। কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক সফি খান ও সাংবাদিক আব্দুল খালেক ফারুক এনাদের দুজনের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে আক্রান্ত ছিলেন বীরপ্রতীক তারামন বিবি। এরপর তারামন বিবির খোঁজ করার জন্য ১৯৯৪ সালে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সাংবাদিকদের কাছে পোস্ট কার্ডের মাধ্যমে চিঠি দেন মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও তৎকালীন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষক বিমল কান্তি দে।

 

তার চিঠি পেয়ে প্রথম খোঁজ দেন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বাসিন্দা অধ্যাপক আব্দুর সফুর ফারুকী। তিনিই প্রথম স্থানীয় পত্রিকা সাপ্তাহিক গণকথায় তুলে ধরেন তারামন বিবির বীরত্বের কথা। এরপর জেলায় সবাই চেনেন তারামন বিবিকে। পরবর্তীতে জেলার স্থানীয় দুজন সাংবাদিক পরিমল মজুমদার ও মোন্নাফ আলী জাতীয় পত্রিকা ভোরের কাগজে তুলে ধরেন বীর প্রতীক তারামন বিবিকে।

 

সারাদেশের মানুষ জানেন মুক্তিযুদ্ধের এই কীংবদন্তি নারীকে। ১৯৯৫ সালে তার খোঁজ মেলার পর প্রধানমন্ত্রী তার হাতে বীরপ্রতীক খেতাব তুলে দেন সম্মানিত করেন। তারামন বিবির বীরত্বের গল্প এখন তার জন্মভূমি কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রাম ছাড়িয়ে সারাদেশের মানুষদের কাছে ছড়িয়েছে। সারাদেশের মানুষদের মুখে মুখে তার বীরত্বের কথা থাকলেও তিনি আর আমাদের মাঝে নেই।

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দেশের জন্য যুদ্ধ করে জয়ী হওয়া বীর সেনানী ফুসফুসে সংক্রমণে মারা যান গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম দিন।



  সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত
photo


নামাজের সময়সূচি

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩

শিরোনামঃ

♦ কচুয়ায় ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত ♦ করোনা টিকা নেয়ার পর ভারতে এক ব্যাক্তির মৃত্যু ♦ কেশবপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ লক্ষাধিক টাকার মাছের ক্ষতি ♦ লৌহজংয়ে শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে গাংচিল বাস সার্ভিস বন্ধ ♦ মুরাদনগরে প্রতিবন্ধীর লাশ উদ্ধার পরিবারের দাবি পরিকল্পীত হত্যা! ♦ মুন্সীগঞ্জে ট্রলার ও লঞ্চের সংঘর্ষে নিখোঁজ ১ ♦ পরিছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে বিডি ক্লিন ♦ মুন্সীগঞ্জে গীতা জয়ন্তী মহোৎসব অনুষ্ঠিত ♦ মোমবাতি জ্বালিয়ে আনুশকা হত্যার বিচার চাইলো ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ ♦ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আ’লীগ ও যুবলীগ সংঘর্ষে ৬জন আহত