logo
photo

মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী ও মানুষ একইসাথে ধ্বংস করে চলেছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরীগুলো

১১ মার্চ, ২০১৯   |   news71.tv

মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী ও মানুষ একইসাথে ধ্বংস করে চলেছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরীগুলো

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :

মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অ্যাশ এবং ডাইং ও প্রিন্টিংসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্যে ব্যাপক মাত্রায় পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। এছাড়া সিমেন্টসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টরিগুলো মাটি ভরাট ও স্থাপনা তুলে নদী এবং স্থানীয়দের জমিজমাও দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।


জমি দখল, নদী দখল, নদী দূষণ করে ধলেশ্বরী নদী ধ্বংস করে চলেছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরীগুলো। চিকিৎসকদের অভিমত এই ক্লিংকার ও অ্যাশে সাধারণ যাত্রী নদীর পাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষদের এ্যাজমা, শ্বাস কষ্টসহ লাঞ্চ ক্যান্সারও হতে পারে। তাই, দ্রুত ধলেশ্বরীর এই দূষণ বন্ধ করা প্রয়োজন।

মুক্তারপুরের গোসাইবাগ গ্রামের বজলুর রহমান ফটিক জানান, শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি তার ১ হাজার ৪শ’ ৭০ শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে শ্রমিকদের লেলিয়ে দিয়ে হামলা করে। পশ্চিম মুক্তারপুরের আরশ দেওয়ান জানান, তার ১ হাজার ৩শ’ ৩৪ শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরিটি। তারা সরকারি রাস্তাও দখল করে জনগণের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনিভাবে নয়াগাঁওয়ের মো. রকিবের ৫শ ১৪ শতাংশ, চরসন্তোষপুরের দেলোয়ার হোসেনের ৩শ ৫৭ শতাংশ জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নয়াগাঁও জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত ১ হাজার ২শ’ শতাংশ জমিও দখল করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অ্যাশ উড়ে গিয়ে পড়ছে ধলেশ্বরী নদী ও আশপাশ এলাকার বাড়িঘরে। ফ্যাক্টরিগুলো ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করছে। এতে করে মুন্সীগঞ্জ সদরের ধলেশ্বরী নদীর দুইপাড়ের মানুষের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কয়েকশ’ একর জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েকদফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জের চরমুক্তারপুরে বিভিন্ন টেক্সটাইল মিলসের কেমিক্যাল মিশ্রিত তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে মিশছে। মুক্তারপুর ও চরমুক্তারপুরে সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অ্যাশ এবং ডাইং ও প্রিন্টিংসহ অংসখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান পানি ও বায়ুদূষণ করে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন করে তুলেছে। এ পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নদী পাড়ের বাসিন্দাদের গোসল করার ক্ষেত্রেও হচ্ছে সমস্যা।

সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোর অ্যাশ উড়ে সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে খোলামেলাভাবে ক্লিংকার জাহাজে লোড-আনলোড করা হচ্ছে। সিমেন্টের অ্যাশ উড়ে এসে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী হাটলক্ষীগঞ্জ, নয়াগাঁও, মীরেশ্বরাই, মুক্তারপুর, মালিরপাথর, ফিরিঙ্গিবাজার, চরমুক্তারপুরসহ আশপাশ এলাকার পরিবেশ দূষণ করে চলেছে। সামান্য বাতাসেই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অ্যাশ উড়ে আশপাশের সমস্ত এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিরকাদিম নদী বন্দর ঘাট থেকে শুরু করে চরকিশোরগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ ৩-৪ কিলোমিটার এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর পানি পঁচে গেছে। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। মাছও নেই নদীতে। জেলেরা এখন আর এ ধলেশ্বরী নদীতে মাছ শিকারে আসে না। আগে নদীতে কিছু সময় পর পর শুশুক মাছ ভেসে উঠতো। তা আবার ডুবে যেতো। কিন্ত সেই শুশুক তথা ডলফিন মাছ এ নদীতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর জাহাজগুলোও নদী দখল করে রাখায় লঞ্চসহ নৌযানগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না। সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর জাহাজগুলোও নদী দখল করে রাখায় লঞ্চসহ নৌযানগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না।

ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ ও বায়ুদূষণের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরের চরমুক্তারপুর এলাকার ক্রাউন, মেট্রো সিমেন্ট, প্রিমিয়ার, শাহ, সিমেন্ট ও গজারিয়ায় আনোয়ার সিমেন্টসহ ৬টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিকবার ক্রাউন, প্রিমিয়ার, শাহ সিমেন্টসহ বিভিন্ন কলকারখানার মালিকদের জরিমানা ও সর্তক করে দেয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।

এদিকে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা নদী দখল, দূষণ ও সরকারি রাস্তা খুলে দেয়ার দাবিতে মুন্সীগঞ্জের চরমুক্তারপুরের ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান, নদীগুলো দখল-দূষণে আজ ধলেশ্বরী নদী মৃত প্রায়। শিল্পকারখানাগুলোর একদিকে যেমন নদীর জায়গা দখল করছে অন্যদিকে অবৈধভাবে স্থাপনা করছে। পানি ও বায়ু দূষণের ফলে মানুষজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর জাহাজগুলোও নদী দখল করে রাখায় লঞ্চসহ নৌযানগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা নদী দখল ও দূষণের কথা স্বীকার করে জানান, প্রতিটি শিল্পকারখানাই নদীর পানি দূষণ ও বর্জ্য নিষ্কাশনের সঙ্গে জড়িত। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। অতি শীঘ্রই মন্ত্রণালয় থেকে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সিমেন্ট ফ্যাক্টরীগুলোর দখলদারিত্ব, নদী দূষণ, নদী দখল, লঞ্চ চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করা ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি থেকে মুক্ত করবে ধরেশ্বরী নদী এটাই সাধারণ মানুষের কামনা করছে। দ্রুত এ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নদী দূষণ যাতে না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেবে।



  সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত
photo


নামাজের সময়সূচি

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩

photo

শিরোনামঃ

♦ দেশে প্রবাহমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবেঃ ডা: দীপু মনি ♦ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ আরো বাড়ানোর আহবান বাংলাদেশের ♦ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করছেঃ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ♦ ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্রাটেজিক একশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগঃ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ♦ কৃষির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবেঃ কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ♦ বগুড়ায় আদমদিঘীতে ৬০ কেজি গাঁজাসহ ৩জন গ্রেফতার ♦ কোভিড-১৯ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হলো বগুড়ায় ♦ বগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আলু নিয়ে ৫ মামলায় ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ♦ বগুড়ার পৌর এডওয়ার্ড ও শহীদ খোকন পার্ক সাত মাস পর খুলে দেয়া হয়েছে   ♦ কেশবপুর পৌরসভার আলতাপোলে ওয়ার্ডে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামের পক্ষে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত